বিশ্বব্যাপী মেমোরি চিপের দাম বেড়েছে ৮০-৯০ শতাংশ

বিশ্ববাজারে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে মেমোরি চিপের দাম।

বিশ্ববাজারে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে মেমোরি চিপের দাম। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) এখন পর্যন্ত মেমোরি চিপের দাম গত প্রান্তিকের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ বেড়েছে। মূলত জেনারেল পারপাস সার্ভার ডিআরএএমের দামে ব্যাপক উল্লম্ফনের কারণে বাজারে এ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গত বছরের শেষ দিকে স্থিতিশীল থাকা ন্যান্ড মেমোরির দামও বর্তমান প্রান্তিকে ৮০-৯০ শতাংশ বেড়েছে। বাজার গবেষণা সংস্থা কাউন্টারপয়েন্টের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন বলছে, উচ্চ প্রযুক্তির এইচবিএম-থ্রি-ই পণ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্যের সঙ্গে সাধারণ মেমোরি চিপের এ ঊর্ধ্বগতি মিলে বর্তমানে বাজারের সবক’টি বিভাগেই বড় উল্লম্ফন লক্ষ করা যাচ্ছে, যা নিকট অতীতে আর দেখা যায়নি।

বিশ্ববাজারে সার্ভার গ্রেড মেমোরি বা র‍্যামের দামের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি প্রযুক্তি শিল্পে বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) যে ৬৪ গিগাবাইটের আরডিআইএমএম মেমোরি মডিউলের মূল্য ছিল ৪৫০ ডলার, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে তা দ্বিগুণ বেড়ে ৯০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় আগামী দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ দামের পারদ ১ হাজার ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ডাটা সেন্টারের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত সার্ভার মেমোরির চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়াই এ মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। ফলে কেবল সার্ভার নয়, বরং সাধারণ ব্যবহারকারীদের কম্পিউটার ও স্মার্টফোনের দামও পরোক্ষভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষক জংকু চই উল্লেখ করেন, একদিকে মেমোরি চিপসহ যন্ত্রাংশ তৈরির খরচ বেড়ে যাচ্ছে, আর অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কেনার সামর্থ্য কমে আসছে। এ দুই প্রতিকূলতার কারণে বর্তমান প্রান্তিকজুড়ে মেমোরি চিপের চাহিদা কমে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ডিভাইস নির্মাতারা কীভাবে ও কোন উৎস থেকে মেমোরি কিনবে, সে কৌশল বদলাতে পারে। অথবা তুলনামূলক দামি ও প্রিমিয়াম ডিভাইসের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘এখন কোম্পানিগুলোর মূল কৌশল হলো উন্নত ফিচার ও সেবার মাধ্যমে বেশি দামের যৌক্তিকতা বোঝানো, যেন ক্রেতারা উচ্চমূল্য দিতে রাজি হন।’

চই বলছেন, মেমোরি ব্যবসায়ের মুনাফা এখন ইতিহাসের সবচেয়ে উঁচু পর্যায়ে যেতে পারে।

২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে ডিআরএএমের মতো সাধারণ ডিভাইসে ব্যবহৃত সাশ্রয়ী মেমোরি থেকে মুনাফার হার প্রায় ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি প্রথমবার, যখন সাধারণ কাজে ব্যবহৃত ডিআরএএমের মুনাফা উন্নত এইচবিএম মেমোরিকেও ছাড়িয়ে গেছে।

আরও